সিসি ডেস্ক: ছাত্রলীগ নেতার যৌন হয়রানির শিকার রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সেই ছাত্রী নিরাপত্তার অভাবে হল ছেড়েছেন। ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে ক্যাম্পাসে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে এ ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠনসহ সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ, ওমর ফারুক, শিক্ষার্থী চেতনা রায়, মমিনুল হকসহ আরো অনেকে। তারা বলেন, রাজনৈতিক ব্যানারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুগ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথমবর্ষের ওই ছাত্রীকে পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা শুভ বেশ কিছু দিন ধরে প্রেম নিবেদন, যৌন হয়রানিসহ উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। শুভর প্রেম প্রত্যাখ্যান করলে শুভ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সোমবার বিকেলে ওই ছাত্রীকে ক্যাম্পাসে একা পেয়ে এসিড মারার হুমকি দেন। বিষয়টি ছাত্রী তার সহপাঠীসহ বেরোবির বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের নেতা হাদী গ্রুপকে জানান। এ ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রী মঙ্গলবার সকালে রংপুর কোতোয়ালি থানায় বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান শিশির, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা হাসান, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, আরিফুল ইসলাম, আদনান আলী ও শামীমকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। দুপক্ষ শিশির ও হাদী গ্রুপের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
এসব সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা পঞ্চগড় থেকে এসে তার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জীবনকে হাতে নিয়ে লেখাপড়া করার প্রয়োজন নেই।